Header Border

ঢাকা, , | () ২৯.৫৫°সে
শিরোনাম
রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিপুল পরিমান ভারতীয় ট্যাপেনট্রাডল ট্যাবলেট জব্দ ঠাকুরগাঁওয়ে ২২০ পিস ইয়াবা, ৯ বোতল ফেন্সিডিল ও ৩২ হাজার টাকা উদ্ধার, আটক ১ আত্রাইয়ের পাঁচুপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া চেয়ারম্যান পদে গণসংযোগে ব্যস্ত নিয়ামত আলী বাবু। বুড়িচংয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত পণ্যজটে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতার ৪০ শতাংশ অকার্যকর, অর্থনীতিতে বাড়ছে নেতিবাচক প্রভাব গোপালগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষের প্রস্তুতি উৎপাদন বাড়াতে টেকসই মৎস্য চাষে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব বন্দর ইজারা ইস্যুতে সরকারকে জনগণের কথা শুনতে হবে: বন্দর রক্ষা কমিটি সময়ের কাছে জবাবদিহি- ডি. এম. এমদাদুল হক ভিক্ষাবৃত্তি থেকে স্বাবলম্বিতার পথে: কালিয়াকৈরে অসহায় মানুষের পুনর্বাসনে বকনা গরু বিতরণ। চট্টগ্রামে গ্যাসের তীব্র সংকট, রান্না বন্ধ বহু ঘরে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভরশীল নগরবাসী

চট্টগ্রামে মেট্রোরেল-মনোরেল বিতর্ক: কোনোটিই এখন বাস্তবসম্মত নয়, বলছেন বিশেষজ্ঞরা চট্টগ্রামে মেট্রোরেল-মনোরেল বিতর্ক: কোনোটিই এখন বাস্তবসম্মত নয়, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

চট্টগ্রামের বিদ্যমান ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে নতুন করে মেট্রোরেলের পিলার ও স্টেশন নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে মেট্রোরেল ও মনোরেল নির্মাণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বাস্তবতায় এ দুই প্রকল্পের কোনোটিই নগরীর জন্য অগ্রাধিকার হওয়া উচিত নয়। তাদের মতে, ব্যয়বহুল মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে অধিকাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার জন্য পরিবহন মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়নের কাজ করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এ সময় সরকার মেট্রোরেলের সম্ভাবনা যাচাইয়ের দিকে এগোলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
ডিটিসিএ সূত্র জানায়, ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এরিয়ার জন্য ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর আরবান মেট্রোরেল ট্রানজিট’ প্রকল্পের আওতায় নগরীর যানজট হ্রাস, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ পরিবহন চাহিদা নিরূপণের কাজ চলছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (কোইকা) দিচ্ছে ৫৭ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং কাজের অগ্রগতি ৫০ শতাংশ।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম সফর শেষে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান জানান, যাত্রী চাহিদা ও ট্রাফিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশমালা জমা দেওয়া হবে। চাহিদা বেশি হলে মেট্রোরেল, মাঝারি হলে লাইট রেল ট্রানজিট (এলআরটি) এবং কম হলে মনোরেলের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করে পরবর্তী বছরেই কাজ শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। চসিকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিনটি রুটে মনোরেল নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা, যার অর্থায়ন করবে বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।
তবে ডিটিসিএর প্রকল্প পরিচালক ও ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার মীর মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, “চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন চাহিদা বিবেচনায় মেট্রোরেলই বেশি কার্যকর। মনোরেলের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা মেট্রোরেলের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। তবে এটি ফিডার সার্ভিস হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।”
এদিকে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে, যাতে এটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
তবে পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহসভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া। তিনি বলেন, “ঢাকায় বিআরটি প্রকল্পসহ বিভিন্ন উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত সফলতা পায়নি। যারা রাজধানীর যানজট কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, তারা চট্টগ্রামে এসে মেট্রোরেলের নামে নতুন সমাধান দেবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।”
তার মতে, চট্টগ্রামের বিদ্যমান ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে নতুন করে মেট্রোরেলের পিলার ও স্টেশন নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন। তিনি আরও বলেন, “সাধারণ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ৮০ শতাংশ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।”
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারও একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রকৃত প্রয়োজন ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা যাচাইয়ের আগেই মেগা প্রকল্পের ধারণা সামনে আনা হচ্ছে। আগে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, লেন শৃঙ্খলা, পথচারী সুবিধা এবং বাস সার্ভিসের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “একই সড়কে ধীরগতির ও দ্রুতগতির যানবাহন, রিকশা, ঠেলাগাড়ি এবং পথচারীদের চলাচল বর্তমান ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা। এসব মৌলিক সমস্যা সমাধান না করে সরাসরি ব্যয়বহুল প্রকল্পে যাওয়ার যৌক্তিকতা নেই।”
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, প্রযুক্তিগতভাবে মেট্রোরেল কিংবা মনোরেল নির্মাণ সম্ভব হলেও মূল প্রশ্ন হলো—এসব প্রকল্প চট্টগ্রামের জন্য অর্থনৈতিকভাবে টেকসই, ব্যবহারযোগ্য এবং নগরবাসীর প্রকৃত প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হবে কি না। সেই উত্তর খুঁজে পাওয়ার আগেই মেগা প্রকল্প নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক আলোচনা শুরু হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

ভারী বৃষ্টি ও ভরাট খালই চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারন : ত্রাণমন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দ্বিতীয় দিনেও
টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে আবারও জলাবদ্ধতা, জনদুর্ভোগ চরম
ভয়াবহ দুর্যোগেও হাটহাজারীতে গুলি ও কুপিয়ে একজনকে হত্যা, গ্রেফতার-১
চট্টগ্রামে ২২ মামলার আসামি ছিনতাই চক্রের মূলহোতা ‘বাদশা’ গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামে বন্যায় মৎস্য ও কৃষিখাতে শতকোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

আরও খবর

error: Content is protected !!