
দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বগুড়া জেলা শাখার তৃণমূল দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, প্রায় চার বছর ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। ফলে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সংকট শুধু বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে নয়; বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, অর্থ পাচার এবং নীতিগত দুর্বলতার ফল।
তিনি আরও বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের কারণে আমদানি ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট শিল্প উৎপাদনকে স্থবির করে নতুন কর্মসংস্থানের পথ রুদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে বাজার সিন্ডিকেট ও অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দমনে প্রশাসনের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হওয়ার পথে এবং দেশের অর্থনীতি অসাধু চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, দেশের এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের জন্য শুধু সংকোচনমূলক নীতির দোহাই না দিয়ে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন মহল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যে চেষ্টা চলছে, তা ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও আত্মমর্যাদার প্রশ্নে কোনো পরাশক্তিকে ঢালাওভাবে ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ বলা উচিত নয়।
চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বছরের পর বছর হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিরসনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুর্নীতি, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার কারণেই চট্টগ্রামের মানুষকে ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা আব্দুল হক আজাদ বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা ছিল সাম্য, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। কিন্তু বর্তমানে একশ্রেণীর মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, যা দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, মব জাস্টিস কোনো সমাধান নয়; বরং এটি অপরাধকে আরও উৎসাহিত করে। তাই গণপিটুনি, সহিংসতা ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
জেলা সভাপতি আ.ন.ম. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম শফিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ বগুড়া জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল মতিন, সহ-সভাপতি অধ্যাপক মীর মাহমুদুর রহমান চুন্নু, জয়েন্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক মুফতী এমদাদুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক জিয়াউর রহমান জিয়া, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বগুড়া জেলা সভাপতি মুহাম্মাদ সোহরাব হোসেন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি ফরহাদ হোসেন মন্টু এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি সোহেল রানা প্রমুখ।

২৭.৭৩°সে
