
রাজশাহীর বাগমারায় গাছ বিক্রির বকেয়া টাকা চাইতে গিয়ে সংখ্যালঘু এক ব্যবসায়ীকে মারধর, নগদ টাকা, স্বর্ণের মালা ও মোবাইল ফোন লুট এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মানিক সরকার হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বিনদপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক সরকার, যিনি পুষ্টি প্লাস ফিডস কর্পোরেট অফিস, মচমইল বাজারে কর্মরত, প্রায় দুই মাস আগে একই ইউনিয়নের নারায়ণপাড়া গ্রামের রুস্তম আলীর কাছে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকায় গাছ বিক্রি করেন। গাছ বিক্রির সময় রুস্তম আলী ২৯ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ৮ হাজার ৫০০ টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তিনি পাওনা টাকা পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২১ জুন মানিক সরকার কর্মস্থল পুষ্টি প্লাস ফিডস কর্পোরেট অফিসে দায়িত্ব পালনকালে অভিযুক্ত রুস্তম আলীর সঙ্গে দেখা হলে তিনি বকেয়া টাকা দাবি করেন। এ সময় রুস্তম আলী টাকা দেওয়ার কথা বললেও কিছুক্ষণ পর তাঁর ছেলে ফিরোজ ঘটনাস্থলে এসে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে বাবা-ছেলে মিলে মানিক সরকারকে দোকানের ভেতরে মারধর করে শার্টের কলার ধরে বাইরে এনে রাস্তার ওপর ফেলে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাঁর কাছে থাকা ব্যবসার নগদ ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা, আনুমানিক ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের ৮ আনা স্বর্ণের মালা এবং ১৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি রিয়েলমি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে ভবিষ্যতে একা পেলে হত্যা এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এদিকে এ ঘটনায় পুলক সরকার নামে এক হোটেল ব্যবসায়ী জানান, মারপিটের সময় তাঁর হোটেলের ক্যাশবাক্স থেকেও অনেক টাকা লুট করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মানিক সরকার বলেন, “আমি আমার ন্যায্য পাওনা টাকা চাইতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে মারধর করে নগদ টাকা, স্বর্ণের মালা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে ফিরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “গাছ কাটার ঘটনায় আমরাই টাকা পাই। গাছ কাটার টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে।”
উক্ত অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে মারধরের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

৩০.৪৫°সে
