
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি অর্থে কেনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ার ব্যক্তিগত অফিসে ব্যবহারের অভিযোগের অবসান ঘটেছে। অবশেষে কালিয়াকৈর উপজেলার ২ নম্বর চাপাইর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত অফিস থেকে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি চেয়ার ফেরত আনা হয়েছে।
চেয়ার দুটি প্রায় সাত মাস ধরে কালিয়াকৈর বাজারে অবস্থিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত অফিসে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অর্থে চাপাইর ইউনিয়ন পরিষদের জন্য মোট ১২টি চেয়ার কেনা হয়। এর মধ্যে দুটি চেয়ার প্রায় চার কিলোমিটার দূরে কালিয়াকৈর বাজারে চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে চেয়ার দুটি সেখানে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
চাপাইর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুর রাজ্জাক জানান, চেয়ার দুটি ইউনিয়ন পরিষদে ফেরত আনার জন্য তিনি চেয়ারম্যানকে একাধিকবার অনুরোধ করেছিলেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তার অনুরোধের পরও চেয়ার দুটি দীর্ঘ সময় ব্যক্তিগত অফিসেই ব্যবহৃত হচ্ছিল।
সম্প্রতি বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আসে। গত মঙ্গলবার বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীরা চাপাইর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সরকারি অর্থে কেনা চেয়ার ব্যক্তিগত অফিসে ব্যবহারের বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে ‘সরকারি টাকায় কেনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ার চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত অফিসে’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সরকারি অর্থে কেনা পরিষদের আসবাবপত্র ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা কতটা যৌক্তিক—এমন প্রশ্নও তোলেন স্থানীয় অনেকে।
এরপর সংবাদ প্রকাশের পরপরই তড়িঘড়ি করে চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত অফিস থেকে চেয়ার দুটি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুর রাজ্জাকও চেয়ার দুটি পরিষদে ফেরত আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, ইউনিয়ন পরিষদের অর্থ ও সম্পদ জনগণের সেবার জন্য ব্যবহারের কথা। তাই পরিষদের অর্থে কেনা কোনো আসবাবপত্র বা সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে, সংবাদ প্রকাশের পর চেয়ার দুটি ফেরত দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, গণমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসার পর চেয়ারগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি অর্থে কেনা পরিষদের সম্পদ কীভাবে দীর্ঘদিন ব্যক্তিগত অফিসে গেল এবং এর অনুমোদন ছিল কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
চেয়ার ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে আপাতত বিষয়টির সমাধান হলেও সরকারি অর্থে কেনা ইউনিয়ন পরিষদের সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

৩০.৮১°সে
