
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, ঝরে পড়া রোধ এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ “পার্টনারশিপ স্কোপিং সভা” অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট সেক্টর, উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষক, সমাজসেবক ও বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করে মেয়েদের শিক্ষার উন্নয়নে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
সোমবার (৮ জুন ২০২৬) সকাল ১১টায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে মালালা ফান্ডের অর্থায়নে এবং এফোর্টস ফর রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট (ইরা) বাস্তবায়িত “এডুকেশন চ্যাম্পিয়ন নেটওয়ার্ক-৭” প্রকল্পের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহফুজুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন ইরা সুনামগঞ্জের মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসার মো. ফজলুল করিম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপাল থেকে আগত মেডিকেল অফিসার ডা. সোনিমা কর্মাচারিয়া এবং পাবলিক হেলথ অফিসার শীতল সাকিয়া। তারা মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ এলাকায় অনেক মেধাবী ছাত্রী আর্থিক সংকট, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, বাল্যবিয়ে, পারিবারিক অনীহা ও অন্যান্য কারণে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
আলোচনায় মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষার পথে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে সেগুলো দূরীকরণে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। বিশেষভাবে আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক সহায়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন যে, কোনো মেয়ে যেন শুধুমাত্র অর্থাভাবে তার শিক্ষাজীবন বন্ধ করতে বাধ্য না হয়। এ লক্ষ্যে তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে আর্থিক, সামাজিক ও নৈতিক সহায়তা প্রদানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছাত্রীদের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা পরিষদে জমা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। শিক্ষক, সমাজসেবক, পেশাজীবী ও বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এসব শিক্ষার্থীর পাশে কার্যকরভাবে দাঁড়ানো সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, মেয়েদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষিত নারীই একটি সমৃদ্ধ সমাজ ও উন্নত জাতি গঠনের অন্যতম ভিত্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন ইরার মাঠ সহায়ক ফারজানা জান্নাত ও নিলুফা ইয়াছমিন। অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও মেয়েদের শিক্ষার উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

২৭.৫৭°সে
