
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ছোট শাখারিয়া উত্তর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল হান্নানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণার বিস্ফোরণ ঘটেছে। যে মানুষটির হাতে কোমলমতি শিশুদের নৈতিক শিক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকার কথা, তার বিরুদ্ধেই এমন জঘন্য অভিযোগ—এ ঘটনায় স্তম্ভিত অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষ।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ঘটনাস্থলে এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিতহয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি—ফাঁসি—দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, “শিক্ষকের মুখোশে লুকিয়ে থাকা এমন নরপিশাচদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সমাজে ন্যায়বিচারের কোনো মূল্য থাকবে না।”
ভুক্তভোগী শিশু “আলো” (ছদ্মনাম), পিতা খালেকের অভিযোগের ভিত্তিতে গোপালপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোপালপুর থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত রেজাউল হান্নানকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে সোপর্দ করা হলে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। তারা প্রশাসনের প্রতি কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? এখনই কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা না বাড়ালে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

২৯.২৩°সে
