Header Border

ঢাকা, , | () ২৬.৩১°সে

মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষে যৌন উত্তেজক ওষুধ ও সরঞ্জাম, অপসারণ দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

ফরিদপুর শহরের পূর্বখাবাসপুর এলাকায় অবস্থিত সবজাননেসা মহিলা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসাইনের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিন আগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাঁর অবিলম্বে অপসারণের দাবিতে মাদ্রাসার সামনের সড়কে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ও ৩০ জন শিক্ষক রয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা জানান, অভিযুক্ত অধ্যক্ষ যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসার সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বিভিন্ন দপ্তর থেকে আসা অনুদানের লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন অধ্যক্ষ। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের অডিটের নামে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় এবং পাঠ্যবই বিক্রির টাকাও নয়ছয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফাজিল প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে চাকরির লোভ দেখিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপে বাধ্য করার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। গত ১৬ আগস্ট শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেললে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত ১৯ আগস্ট অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট ছুটির আবেদন করে মাদ্রাসা ত্যাগ করেন অধ্যক্ষ আলমগীর হোসাইন। এরপর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের যৌথ স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসকের নিকট জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো মাদ্রাসাটি পরিদর্শনে যান। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষের কক্ষের ড্রয়ার তল্লাশি করে বিভিন্ন যৌন উত্তেজক ওষুধ ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

বাংলা বিভাগের প্রভাষক ফারজানা আক্তারসহ অন্যান্য শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের এই ধরনের আচরণ শিক্ষক সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। শিক্ষার্থীরাও শ্রেণিকক্ষে ও হোস্টেলে বিভিন্ন সময়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এবং রক্ষক যখন ভক্ষক হয় তখন তাঁর আর পদে থাকার কোনো অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেন। তবে নিজেদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোন আলমগীর হোসাইন জানিয়েছেন, মাদ্রাসার এক প্রভাবশালী সদস্যের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

নরসিংদীর শিবপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন
পটুয়াখালীর সড়কটি কাগজে-কলমে পাকা, বাস্তবে কাঁচা
নারীর ক্ষমতায়নে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, পরিবারকেও সম্পৃক্ত করতে হবে: ববি হাজ্জাজ
চাঁদপুরে জেলেদের চাল চুরির ঘটনায় ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বরখাস্ত
দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি
ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

আরও খবর

error: Content is protected !!