Header Border

ঢাকা, , | () ২৯.৭৪°সে

গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু, ঝুঁকিতে রোগীরা

দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু এখন শহর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর পাশাপাশি মফস্বল ও গ্রাম এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে গ্রামাঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পরীক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত ও সুচিকিৎসার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে রোগীর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিট সংকটের কারণে গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিক থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচ করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত কিটের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

দেশের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যশোরের কেশবপুরে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মতলেব হোসেন নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। চলতি বছর কেবল ওই হাসপাতালেই শতাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। একইভাবে কিশোরগঞ্জেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং সেখানে নতুন করে বহু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে পার্বত্য অঞ্চলের রাঙামাটির রাজস্থলীতে বিগত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ি এই জনপদে হঠাৎ করে মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। যদিও অধিকাংশ রোগীকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা সম্ভব হয়েছে, তবুও গুরুতর রোগীদের জেলা সদরে স্থানান্তর করতে হচ্ছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে নির্ধারিত বিছানার পাশাপাশি বারান্দা ও ফ্লোরে রোগীদের রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহর থেকে জীবিকার তাগিদে বা অন্য কোনো কারণে গ্রামে ফিরে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ডেঙ্গুর প্রভাব অনেক বেশি এবং রোগীর এই ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা সেবার মান বজায় রাখতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আলভী হাছান জানিয়েছেন, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়লে পর্যায়ক্রমে বেড, স্যালাইন, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং নার্সিং সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হবে। এদিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ হাসপাতালের কিট সংকটের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানুল্লাহ আল মামুন আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুতই নতুন কিটের মজুত চলে আসবে এবং পরীক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল চিকিৎসালয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

নরসিংদীর শিবপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন
পটুয়াখালীর সড়কটি কাগজে-কলমে পাকা, বাস্তবে কাঁচা
নারীর ক্ষমতায়নে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, পরিবারকেও সম্পৃক্ত করতে হবে: ববি হাজ্জাজ
চাঁদপুরে জেলেদের চাল চুরির ঘটনায় ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বরখাস্ত
দুর্গাপূজায় কী পরবে বাড়ির বাড়ন্ত মেয়েটি
ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

আরও খবর

error: Content is protected !!