Header Border

ঢাকা, , | () ৩২.৬°সে

মাদক মামলার আসামিকে ছাড়াতে এসপি অফিস ঘেরাও, আটক ২০

নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের প্রধান ফটক ঘেরাও করে বিক্ষোভ এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মাদক মামলার এক আসামিকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন এই হট্টগোল সৃষ্টি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ২০ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় মুহূর্তেই চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক হওয়া সুজন ইসলাম নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি জেলা গোয়েন্দা শাখা বা ডিবি পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে সৈয়দপুর শহর থেকে সুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এর আগে ২০১৮ এবং ২০২১ সালে নীলফামারী সদর থানা এবং ২০২১ সালে ঢাকার দারুস সালাম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদক আইনে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। যার মধ্যে একটি মামলার তদন্ত শেষ করে ইতিমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়েছে।

ঘটনার দিন দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত সুজনকে যখন পুলিশ কড়া নিরাপত্তায় আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই তাঁর স্বজন ও স্থানীয়রা এসপি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। তারা আসামির মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন এবং প্রিজন ভ্যানের গতিপথ রোধ করার চেষ্টা করেন। পুলিশ সদস্যরা তাদের বারবার বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তারা পিছু হটেনি। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চড়াও হন বিক্ষোভকারীরা।

পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় পুলিশ বাধ্য হয়ে কঠোর অবস্থান নেয় এবং ধাওয়া দিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনকে আটক করে নীলফামারী সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম ফয়জুল ইসলামও একই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত সুজনের পরিবার ও স্বজনদের দাবি, তাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে একটি মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে সুজনের মুক্তি চেয়েছেন। তবে পুলিশের নথিপত্র এবং পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড বলছে ভিন্ন কথা, যা এই ঘটনার পেছনে বড় কোনো চক্রের সম্পৃক্ততা থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুলিশ বলছে, এই বিশৃঙ্খলার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের পলাতক নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার
ঢাকায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ১০৪
বয়স জালিয়াতি করে ১৭ বছর চাকরি
জার্মান পর্যটকের সেই ল্যাপটপ নাটোর থেকে উদ্ধার
অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ, সুভাস্তু ডেভেলপমেন্টে দুদকের অনুসন্ধান

আরও খবর

error: Content is protected !!