Header Border

ঢাকা, , | () ২৪.৫°সে

খালে আটকা পড়া এক হাঙর নিয়ে শহরজুড়ে মাতামাতি, পর্যটকের ভিড়

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান বন্দর নগরী বুসানের একটি সরু জলপথে একটি বিশাল আকৃতির হাঙর আটকা পড়ার পর থেকেই শহরজুড়ে তীব্র কৌতূহল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন মিটার দীর্ঘ এই জলচর প্রাণীটিকে এক নজর দেখার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার ওয়াকফ্রম পার্কে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভালোবেসে এই সামুদ্রিক প্রাণীর নাম দিয়েছেন বুকাং-ই, যা বুসান নর্থ পোর্টের নামের সঙ্গে মিলিয়ে রাখা হয়েছে। এই আকস্মিক ঘটনাটি শহরের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কয়েকদিন আগে ভোরে নর্থ পোর্ট ওয়াটারফ্রন্ট পার্কের কাছাকাছি একটি সরু খালে প্রথমবার এই জলচর প্রাণীটিকে সাঁতার কাটতে দেখেন স্থানীয়রা। এরপর কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে প্রাণীটিকে নিরাপদে উন্মুক্ত সাগরে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রাথমিক উদ্ধার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে জীববিজ্ঞানী ও গবেষকরা সতর্ক করে জানান যে, জোরপূর্বক উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে গেলে সামুদ্রিক প্রাণীটি আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে কিংবা আতঙ্কিত হয়ে আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে। বিজ্ঞানীদের এই সতর্কবার্তার পর কোস্ট গার্ড তাদের উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়।

প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞরা এটিকে বাস্কিং শার্ক বা নিরীহ প্রজাতির হাঙর হিসেবে চিহ্নিত করলেও পরবর্তী পর্যবেক্ষণে জানা যায় এটি মূলত ব্রোঞ্জ হুইলার প্রজাতির। ধারণা করা হচ্ছে, ছোট মাছ বা সামুদ্রিক শিকারের পেছনে ছুটতে ছুটতে এটি মূল সমুদ্র থেকে এই খালের ভেতর চলে আসে এবং পরবর্তীতে দিক হারিয়ে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। খালের ভেতরে আটকে পড়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে কোস্ট গার্ডের নৌকার সাহায্যে পানির তীব্র স্রোত তৈরি করে সেটিকে সাগরের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও সেটি সফল হয়নি। ম্যাসাচুসেটসের একটি সফল উদ্ধার কৌশলের অনুকরণে এই প্রচেষ্টা চালানো হলেও চতুর হাঙরটি প্রতিবারই কৌশলে আবার খালের ভেতরের দিকে চলে আসে।

দীর্ঘ সময় ধরে সরু জায়গায় আটকা থাকলেও হাঙরটির শারীরিক অবস্থা এখনো বেশ স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। তবে এভাবে বন্দি দশায় দীর্ঘদিন কাটালে খাবার সংকটের পাশাপাশি এর স্বাভাবিক চলাফেরা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তা সত্ত্বেও প্রাণীটিকে কেন্দ্র করে বুসানের পর্যটন খাতে এক অভাবনীয় জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং নির্ধারিত ছুটির দিনগুলোতে সাধারণ সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটছে। মানুষের এই বাঁধভাঙা উল্লাস ও আগ্রহ দেখে বুসান কর্তৃপক্ষ অভিনব সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রাণীটিকে শহরের সম্মানসূচক প্রচারদূত বা ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করবে বাংলাদেশ-ইইউ
সৌদির আকাশসীমা বন্ধ: ঢাকায় ৪৮৫১ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত, ২৮টি ফ্লাইটের যাত্রাসূচিতে প্রভাব
খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃত হচ্ছে হালাল অর্থনীতি
সুইডেনে বিপিসিএন অ্যাওয়ার্ড পেলেন আইনজীবী শিশির মনির
ইন্দোনেশিয়ার খরা সংকট নিরসনে চীনের নলকূপ প্রকল্প
দিল্লিতে আন্দোলনে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে শাহবাগে মশালমিছিল

আরও খবর

error: Content is protected !!