Header Border

ঢাকা, , | () ৩১.৫°সে

বিকাশ-নগদের সিম জালিয়াতি, প্রতারক চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় অত্যন্ত অভিনব কায়দায় আঙুলের ছাপ ক্লোন করে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশ ও নগদের ব্যবসায়িক সিম রি-ইস্যু করার ঘটনা ঘটেছে। এভাবে ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিকাশ ও নগদের কয়েকটি এজেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। সম্প্রতি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে জেলা পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় এই চক্রের মূলহোতাসহ মোট নয়জন সদস্যকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোংলার চিলা বাজারের বিকাশ ও নগদ এজেন্ট সেলিম শেখের দুটি এবং অপর এক ব্যবসায়ী বিপ্লব মণ্ডলের একটি ব্যবসায়িক সিম টার্গেট করে এই চক্রটি। গত ২৭ জুন ভোরের দিকে ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ক্লোন করা আঙুলের ছাপের মাধ্যমে সিম তিনটি অবৈধভাবে পুনরায় উত্তোলন করা হয় এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এরপর সুকৌশলে ওই সিমগুলোর অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা বিভিন্ন ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অন্য ছয়টি বিকাশ ও নগদ নম্বরে সরিয়ে নেয় প্রতারকরা। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মোংলা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা দায়েরের পর তথ্যপ্রযুক্তির সর্বাধুনিক ব্যবহার ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে মোংলার মামার ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াছিন সওদাগর ও শামীম শেখ নামের চক্রের দুই সদস্যকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাগেরহাটের যাত্রাপুর ও ফকিরহাট এলাকা থেকে আরও দুইজনকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া যৌথ অভিযানে এলিট ফোর্স র‌্যাবের সহায়তায় রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে এই চক্রের আরও পাঁচ সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়। গ্রেপ্তারকৃত এই নয়জনের বাড়ি বাগেরহাট, পটুয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

অভিযান পরিচালনার সময় আটককৃতদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত এগারোটি মুঠোফোন, কুড়িটি সিমকার্ড এবং আত্মসাৎকৃত অর্থের একটি অংশ বিশেষ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও সিমকার্ডগুলো গভীরভাবে পরীক্ষা করে সেখানে আঙুলের ছাপের ডিজিটাল নমুনা এবং অসংখ্য সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, প্রযুক্তিনির্ভর সুনির্দিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং ডিজিটাল অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। চক্রটির বাকি পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ হওয়া বাকি অর্থ উদ্ধারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের পলাতক নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার
ঢাকায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ১০৪
বয়স জালিয়াতি করে ১৭ বছর চাকরি
জার্মান পর্যটকের সেই ল্যাপটপ নাটোর থেকে উদ্ধার
অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ, সুভাস্তু ডেভেলপমেন্টে দুদকের অনুসন্ধান

আরও খবর

error: Content is protected !!